atm fraud:fraud, who used skimming machine on atm, took only 45 seconds for operation | ATM Fraud: মাত্র ৪৫ সেকেন্ড, তাতেই বাজিমাত করেছে প্রতারক

0
67

হিমাদ্রি সরকার

৩০, ২০ বা ১০ মিনিট নয়। মাত্র ৪৫-৫০ সেকেন্ডের ব্যাপার। তার মধ্যেই কিস্তিমাত জালিয়াতের।

লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতির তদন্তে এখনও পর্যন্ত এমনই ধারণা লালবাজারের ব্যাঙ্ক জালিয়াতি দমন শাখা ও সাইবার ক্রাইম থানার আধিকারিকদের। শহরের যে তিনটি এটিএম কাউন্টার থেকে গ্রাহকদের কার্ড স্কিমিং মেশিনের মাধ্যমে জালিয়াতি করা হয়েছে বলে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট-এর নজরে এসেছে, সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে প্রাথমিক ভাবে এমনটাই মনে করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত জালিয়াতের পরিচয় জানতে না-পারলেও তার বা তাদের সম্পর্কে বেশ কিছু সূত্র তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। যে ভাবে এটিএম কাউন্টারগুলিতে অপারেশন চালানো হয়েছে, তা থেকে পুলিশের অনুমান, জালিয়াত অত্যন্ত পেশাদার। কারণ, চোখের নিমেষে এটিএম কাউন্টারে ঢুকে স্কিমিং মেশিন লাগিয়েছে জালিয়াত। তিনটি এটিএম কাউন্টারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশের অনুমান, তিনটি জায়গাতেই একই ব্যক্তি জড়িত। টুকরো টুকরো সূত্রগুলি জোড়া দিয়ে এখন সন্দেহভাজনকে জালে ফেলতে মরিয়া তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুন…
টুপি-রুমালে মুখ ঢেকে এটিএমে কারা? সন্ধানে হন্যে গোয়েন্দারা

কী ভাবে অপারেশন চালাচ্ছে জালিয়াত?

তদন্তকারী এক অফিসার জানান, সাধারণ ভাবে এটিএমে ঢুকে স্কিমিং মেশিন লাগাতে ১০-১৫ মিনিট লাগার কথা। কিন্তু এটিএম কাউন্টারগুলি থেকে যে ফুটেজ মিলেছে, সেখানে সন্দেহভাজন যুবকের ভিতরে ঢোকা-বেরোনোর মধ্যে সময়ের তফাত মাত্রই ৪৫ থেকে ৫০ সেকেন্ড। তার মধ্যেই এটিএমে কার্ড সোয়াইপিংয়ের জায়গায় নিখুঁত ভাবে বসানো হয়েছে স্কিমিং মেশিন। আর এটিএমে যে জায়গায় গ্রাহক বোতাম টিপে পিন নম্বর দেন, তার উপর বসানো হয় গোপন ক্যামেরা। প্রাথমিক ভাবে যতটুকু জানা গিয়েছে, তাতে গোপন ক্যামেরাটি ছোট বাক্সের মতো। এটিএমের বোতামের উপরে সেটি এমন ভাবে আটকানো হয় যে গ্রাহক তো বটেই, ব্যাঙ্ক আধিকারিকদেরও নজরে পড়া মুশকিল। সেই ক্যামেরায় গ্রাহকের আঙুলের নড়াচড়া রেকর্ড হয়ে গেলেই কেল্লা ফতে। তার পর সেই ক্যামেরা ও স্কিমিং মেশিন খুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে প্রতারক, এমন ছবিই ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়।

এক আধিকারিকের ব্যাখ্যা, ব্যাঙ্কের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সন্দেহভাজনের গতিবিধি দেখে মনে হচ্ছে, সকালে গিয়ে সে এটিএমে স্কিমিং মেশিন ও ক্যামেরা লাগিয়েছে। আর রাতে সেটা খুলে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। যে ধরনের গোপন ক্যামেরা এটিএমে আটকানো হয়েছে, তার ব্যাটারি ব্যাকআপ সম্ভবত ১২ ঘণ্টার। তাই ১২ ঘণ্টার মধ্যে যত জন গ্রাহকের তথ্য রেকর্ড হচ্ছে, সেটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর বের করে নিয়ে যাচ্ছে প্রতারক। তার পর ওই চুরি করা তথ্য কোনও চিপ বা হার্ড ডিস্কে রেখে ফের এটিএমে লাগানো হচ্ছে ক্যামেরা ও স্কিমিং মেশিন।

এই সন্দেহভাজনের ‘হাতের কাজ’ দেখে তাজ্জব ব্যাঙ্ক আধিকারিকরাও। সাধারণ ভাবে এটিএম কাউন্টারগুলিতে ব্যাঙ্কের এক বা একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা থাকে, যাতে যিনি কাউন্টারে ঢুকছেন, তাঁর ছবি ধরা পড়ে। পাশাপাশি এটিএম মেশিনটিতেও গোপন ক্যামেরা থাকে যাতে আগন্তুকের চেহারা দেখা যায়। ফুটেজ একটি সার্ভারে জমা হয়। কিন্তু সেই ফুটেজের উপর ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং সম্ভব হয় না। যদি কোনও কারণে এটিএমে অঘটন ঘটে, তা হলে সার্ভারে সংরক্ষিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ কাজে লাগে। ২৪ ঘণ্টা ওই ফুটেজের উপর নজরদারি হলেও সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা মুশকিল। কারণ, আর পাঁচ জন গ্রাহকের মতো সেও খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটিএমে ঢুকে কাজ হাসিল করেছে।

তবে এই ঘটনার পর যে সব এটিএম কাউন্টারে নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন, তাঁদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ভাবছে অনেক ব্যাঙ্কই। যাতে নিরাপত্তারক্ষীরা মাঝেমধ্যে এটিএম পরীক্ষা করে দেখেন, কার্ড সোয়াইপের জায়গায় স্কিমিং মেশিন বা গোপন ক্যামেরা লাগানো আছে কি না।

Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here