Brian Lara:india’s ringtone ‘start from zero’ | ভারতের রিংটোন ‘স্টার্ট ফ্রম জিরো’

0
11


সব্যসাচী সরকার, লন্ডন

টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের রান পাওয়া না পাওয়া নিয়ে খুব দামি একটা কথা বলেছিলেন ব্রায়ান লারা। ‘বোলার্স উইল হ্যাভ ফার্স্ট ফর্টি মিনিটস। ইফ আই অ্যাম স্টিল দেয়ার, রেস্ট ইজ মাইন।’

অর্থাৎ, যে যত বড় ব্যাটসম্যানই হোক, বোলারের প্রথম চল্লিশ মিনিটে তাঁকে আউট করার সবচেয়ে ভালো সুযোগ থাকে। কারণ ওই সময়টাই ব্যাটসম্যান নড়বড়ে থাকে। অনিশ্চয়তার সরণিতে বল ফেলতে পারলে কানায় লাগার সম্ভাবনা থেকেই যায়। সেটা পেরিয়ে যেতে পারলে লারার দাবি, বাকি দিনটা তাঁর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তির ভাবনা এই সিরিজে বারবার ধরা পড়ছে বিরাট কোহলির ব্যাটে।

ইনিংসের শুরুতে বিরাটকে আউট করার সুযোগ বারবার তৈরি করেছেন অ্যান্ডারসন। লারা কথিত প্রথম ৪০ মিনিটে অনেকবারই নড়বড়ে দেখিয়েছে বিরাটকে, ওই সময়ে এজবাস্টনে পরপর দু’বার ক্যাচ পড়ে। বাকিটা বিরাটের ব্যাটসম্যানশিপ। যেখানে ইংল্যান্ড মাথা নুইয়ে আত্মসমর্পণ করেছে। সিরিজে বিরাট ৪৪০ রান করেছেন, কিন্তু ইংল্যান্ড স্লিপে তাঁর ক্যাচ মোক্ষম সময়ে ফেলেছে চারবার। যেমন ট্রেন্ট ব্রিজের দ্বিতীয় ইনিংস। প্রথম ইনিংসে ৯৭ করার পরে বিরাট যখন ৯৩, অ্যান্ডারসনের বলে খোঁচা যায় গালিতে কেটন জেনিংসের কাছে। সহজ ক্যাচ ফেলে দেন জেনিংস।

৫০ করতে পারলে সেটা ১০০-য় বদলে দেওয়ার ব্যাপারে বিরাট কোহলির কনভার্সন রেট এই মুহূর্তে বিশ্বে স্টিভ স্মিথের পরেই। স্মিথের ৬৪ টেস্টে ২৩ সেঞ্চুরি, অর্থাৎ প্রতি ২.৭৮ টেস্টে একটা করে সেঞ্চুরি। শুধু ব্র্যাডম্যান এই কনভার্সন রেটের উপরে। তিনি ৫২ টেস্টে ২৯টা সেঞ্চুরি করেছিলেন। মানে প্রতি ১.৭৯ টেস্টে একটা করে সেঞ্চুরি!

বিরাটের ৬৯ টেস্টে ২৩টা সেঞ্চুরি, অর্থাৎ প্রতি ৩ টেস্টে একটা করে সেঞ্চুরি। বিরাট-পূর্ব যুগে ভারতের আরও দুই কিংবদন্তির ক্ষেত্রে সেটা কীরকম? সুনীল গাভাসকরের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা প্রতি ৩.৬৭ টেস্টে, সচিনের ক্ষেত্রে প্রতি ৩.৯২ টেস্টে। এই পরিসংখ্যানটাই বলে দিচ্ছে, ৫০ রানকে একশোয় বদলে দেওয়ার ব্যাপারে কতটা নির্মম আর ক্ষুধার্ত বিরাট। ট্রেন্ট ব্রিজে অ্যান্ডারসনের বলে বিরাট যদি ৯৩ রানে স্লিপে আউট হতেন, তা হলে দুই ইনিংসে ৯০-এর ঘরে আউট হওয়ার কারণে নার্ভাস নাইন্টির ব্যাপারটা তার মধ্যে এলেও আসতে পারত। সেই সুযোগ হেলায় হারিয়েছে ইংল্যান্ড। সিরিজে ২-১ এগিয়ে থাকলেও স্লিপেই ইংল্যান্ড ফেলেছে ১২টা ক্যাচ। সেখানে ট্রেন্ট ব্রিজে স্লিপে ভারত ধরেছে ১০টা ক্যাচ, তার মধ্যে সাতটা রাহুলের। সাধে ইংল্যান্ড কোচ ট্রেভর বেলিস বলছেন, ‘স্লিপ ক্যাচিংটা আমাদের টিমের কাঁটা হয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে এর সমাধান দরকার।’

ইংল্যান্ড কী ভাবে এর সমাধান করবে তাদের সমস্যা, কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে কোহলি-শাস্ত্রী যুগে খোলামেলা মনোভাবটাই আসল। শাস্ত্রীর ভাষায়, ‘লেস প্র্যাক্টিস, মেন্টাল রেস্ট।’ মানসিক বিশ্রাম মানে তিন দিন পুরোপুরি ক্রিকেটকে মন থেকে বের করে দেওয়া। লর্ডসে হারের পরে টানা তিন দিন টিমকে ছুটি দেওয়া হয়েছিল। তা নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। কিন্তু ট্রেন্ট ব্রিজে জিতে যাওয়ায় সবার মুখ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সাফল্য এমন একটা জিনিস যে সমালোচনাকে সহজে অগ্রাহ্য করতে পারে। তা ছাড়া টিমের দাবি, ভারতে জয়ে বা হারে কী প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, তাতে তাদের কিছু এসে যায় না।

এখানে লন্ডনে চুটিয়ে ছুটি কাটাচ্ছে টিম। বিরাট যেমন নতুন হেয়ার কাটে এ দিনই ছবি পোস্ট করেছেন টুইটারে। রাহানে-ধাওয়ানরাও পরিবার নিয়ে ছুটির মেজাজে। সেন্ট জেমস কোর্ট হোটেল চত্বরের বাইরে বিরাট-অনুষ্কাকে এক ঝলক দেখার জন্য ভিড় কম হচ্ছে না। পাপারাৎজিরা অপেক্ষাতেই আছে। কিন্তু মিঞা-বিবি একত্রে ধরা দিচ্ছেন না।

আসল কথা অন্য। যতই ছুটির মেজাজে থাকুন, বিরাট ট্রেন্ট ব্রিজেই টিমকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, কাজ এখনও শেষ হয়নি। লোকেশ রাহুল যখন তাঁকে ম্যাচের স্মারক স্টাম্প দিতে চেয়েছিলেন, সেটা হেলায় প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বিরাট। তাঁর চাঁদমারি একটা টেস্টে জয় নয়। শাস্ত্রীর ভাষায়, পরের টেস্টেই ‘উই উইল স্টার্ট ফ্রম জিরো।’

আগের টেস্টে কী হয়েছে, সেটা খুব দ্রুত অতীত হয়ে যায়। সাউদাম্পটনে তাই ভারতের রিংটোন—‘স্টার্ট ফ্রম জিরো।’





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here