India vs England:india vs england test series, india batting order face crisis in lords | জিমি ম্যাজিকে বিরাট শূন্যতা

0
23


সব্যসাচী সরাকর, লন্ডন

যেখানে বাঘের হয়, সেখানেই সন্ধে হয়! যখন ধরেই নেওয়া হচ্ছে, ওই ১৫-৩ অবস্থাতেই থামতে হবে, বৃষ্টি থেমে হঠাৎই চড়া রোদ। প্রায় তিন ঘণ্টা কুড়ি মিনিট ব্রেকের পরে মাঠ তৈরি। মানে ফের বাঘের সামনে ভারত। এজবাস্টনের পরে লর্ডসে আবার সেই ডুয়েল। জিমি অ্যান্ডারসন বনাম বিরাট। পড়ন্ত বিকেলে ওই ডুয়েলই ছিল সারা দিনে লর্ডসের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি।

পাঁচটা উইকেট (১৩.২-৫-২০-৫) জিমির পকেটে (শুধু লর্ডসেই ৯৯) থাকলেও বিরাটের উইকেটটা তাঁর নামের পাশে নেই। সেটা ক্রিস ওকসের। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে বিরাটের টিমমেট ভারত অধিনায়ককে বারবার বিভ্রান্ত করে খোঁচা দিতে বাধ্য করলেন। বিরাট ফিরতেই ঠিক সেই ধসে যাওয়ার গল্প। সামান্য লড়াই শুধু রাহানে (১৮) ও অশ্বিনের (২৯)। বাকিদের ইংল্যান্ডের সুইং ও সিম বোলিংয়ের সামনে একবারে সমুদ্রে দিকভ্রষ্ট খাবি খাওয়া নাবিক মনে হয়েছে। যারা জানেই না, কী ভাবে সুইং খেলতে হয়।

কঠিন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটে সব সময়ই ভাগ্য একটা ফ্যাক্টর। কিছুটা সাহায্য লাগেই। বিকেলে যেমন পেয়েছিলেন অজিঙ্ক রাহানে। ৬ রানের মাথায় ফোর্থ স্লিপে ক্যাপ্টেন রুট ফেলেছিলেন তাঁকে। বোলার স্টুয়ার্ট ব্রড। ওই ক্যাচটা ধরতে পারলে ১০৭-এর বদলে ৭৫ অল আউটও হতে পারত। ১৫-৩ হওয়ার পরে প্রেস বক্সে ১৯৭৪ সালের লর্ডসে ৪২ অল আউটের গল্পটাও ভেসে উঠছিল। স্বস্তি, এ বার অন্তত ৪২ বা ৫২ রানে অল আউট হয়নি টিম। ৪২ এর লজ্জার চেয়ে তো ১০৭ ভালো!

সকাল থেকেই তো বিরাটরা ব্যাকফুটে। প্রথমেই টসটা হেরে যাওয়া, তার পরেই সামনে অ্যান্ডারসন। লর্ডসের উইকেটটা যাঁর হাতের তালুর মতো চেনা। বিখ্যাত লাল প্যাভিলিয়নের দিক থেকে ডিউক বল হাতে টেস্টের প্রথম দিন জিমি মানেই যখন-তখন আসবে ব্যাটসম্যানের মৃত্যুবাণ। যেটাকে এ দেশে বলা হয় ‘জিমি ম্যাজিক।’

সাত সকালে ঝলমলে রোদেই ক্রিকেটের মক্কায় শুরু হয়েছিল বহু প্রতীক্ষিত টেস্ট। কথায় বলে, মেয়েদের মন আর লন্ডনের আবহাওয়া, দুটোর কোনওটারই আগাম হদিশ দেওয়া দুষ্কর। এই মেঘলা তো এই রোদ। যথারীতি প্রথম ওভারেই বিজয়ের জন্য অ্যান্ডারসনের বার্তা—ওয়েলকাম টু লর্ডস! শেষ মুহূর্তে ব্যাট এড়াতে যতটা বাঁক নেওয়া দরকার, ঠিক ততটাই বেঁকে বল নড়িয়ে দিল বিজয়ের অফস্টাম্প। ইনিংসের শুরুতেই এমন মারণাস্ত্র পেলে ব্যাটসম্যানই বা কী করবে?

আগের টেস্টের তিন নম্বর থেকে ওপেনারে প্রোমোশন হওয়া লোকেশ রাহুলও বেশিক্ষণ টেকেননি। প্যাভিলয়নের দিক থেকে প্রায় প্রতিটি বল নিয়ম করে অনিশ্চয়তার সরণিতে রাখতে ভুল হচ্ছিল না অ্যান্ডারসনের। যে কারণে তিনি লর্ডসের নয়নের মণি ‘জিমি’। পাঁচটা স্লিপ রেখে তখন চলছে ভারতের দিকে অবিরত গোলাবষর্ণ। ইনিংসের সাত নম্বর ওভারেই বাইরের বলে ব্যাট বাড়িয়ে উইকেট দেওয়া রাহুলের। বোলার সেই অ্যান্ডারসন। এর পরেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এবং ১১-২ অবস্থায় প্যাভিলিয়নে বিরট-পূজারা। মেঘলা আবহাওয়ায় বল তখন যথেচ্ছ সিম আর সুইং করছে।

এই সময় ব্যাটিং মানে অনেকটাই ভাগ্যের হাতে নিজেকে সঁপে দেওয়া। যে কোনও সময় বল বাড়তি বাঁক নিয়ে ব্যাটের কানায় চুমু খেয়ে চলে যাবে স্লিপে। যেখানে ক্ষুধার্ত সিংহের মতো অপেক্ষায় পাঁচ ফিল্ডার। লর্ডসের বিখ্যাত ‘স্লোপ’ বা ঢালকে যে কী দারুণ ভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, দেখাচ্ছিলেন সুইংয়ের জাদুকর। চরম সতর্কতার সঙ্গে খেলছিলেন পূজারা ও বিরাট। কিন্তু বৃষ্টি থেমে মাঠে ফেরার দুটো ওভারের মধ্যেই ঘটে গেল অঘটনটা। অ্যান্ডারসনের বলটায় বিশেষ কিছুই ছিল না। স্টাম্পের উপর করা লেংথ বল। বলটা পয়েন্টে ঠেলে সিঙ্গলস নেওয়ার জন্য দু’পা এগিয়েছিলেন পূজারা। নন স্ট্রাইকার এন্ডে বিরাট প্রথমে সাড়া দিলেও পর মুহূর্তেই দোনামোনা। হঠাৎ পিছিয়ে যাওয়া। ততক্ষণে পূজারা হাফক্রিজ ক্রস করে গিয়েছেন। রান আউট না বলে একে আত্মহত্যা বলাই ভালো।

পূজারার ‘রানিং বিটুইন দ্য উইকেটস’ নিয়ে অতীতেও বারবার প্রশ্ন উঠেছে। গত দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সেঞ্চুরিয়নে তাঁর রান আউট নিয়ে নানা কথা উঠেছিল। কিন্তু লর্ডসের রান আউটে পূজারাকে খুব বেশি দোষ দেওয়ার উপায় নেই। বিরাট শেষ মুহূর্তে মত পাল্টাতেই ঘটে যায় অঘটনটা। কমেন্ট্রিতে তখন ডেভিড গাওয়ার বলছেন, ‘টেস্ট ম্যাচে এই ধরনের রান আউট ক্ষমাহীন বলতে হবে। একে বল সিম করছে, তার উপর কোনও টিম যদি টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিন প্রথম সেশনে রান আউট হয়, সেটা একেবারেই টিমের পক্ষে বলে না।’

বল মিস পূজারাও করছিলেন, আউট হওয়ার আগে ২৫ বলে মাত্র ১ করেছিলেন। কিন্তু উইকেটে টিকে থাকার একটা মরিয়া চেষ্টা তার ব্যাটিংয়ে ধরা পড়েছিল। যেটা টেস্ট ম্যাচে প্রথম দিন ইনিংসের প্রথম ওভারে উইকেট পড়ে গেলে তিন নম্বর ব্যাটসম্যানের কাছে প্রত্যাশিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, স্টান্সে সামান্য বদল। ঝুঁকে দাঁড়ানোর বদলে আর একটু কম হাঁটু ভাঙা স্টান্স। তাতে কাজ হল কি না, রান আউটের জন্য বোঝার উপায় নেই।

টেস্টের দুটো দিনই প্রায় বৃষ্টিতে নষ্ট, সেখানে এক সেশনের সামান্য বেশি মানে ৩৫.২ ওভারে ভারত শুয়ে পড়ল। হার্দিক টিম ম্যানেজমেন্টের ব্লু আইড বয় হতে পারেন, কিন্তু লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিং টেকনিক নিয়ে বহু প্রশ্নচিহ্ন।

আজ শনিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। কিন্তু রবি ও সোমবারের পূর্বাভাস বলছে, বিচ্ছিন্ন ভাবে বৃষ্টি হতে পারে। গত এক মাস ধরে লন্ডনে প্রবল গরম পড়েছিল। একটু বৃষ্টির জন্য হাঁসফাঁস করছিল মানুষ। বৃষ্টিতে প্রায় দুটো দিন শেষ। তার মধ্যেও হারের আতঙ্ক তাড়া করছে ভারতকে।

তার মধ্যে টিম কম্বিনেশনেও গলদ। বার্মিংহ্যামে শুকনো উইকেটে খেলানো হয়নি, এখানে সিমিং উইকেটে কুলদীপকে খেলিয়ে চরম ভুল করল ভারত। অথচ এই ধরনের উইকেটে তিনটে বিশেষজ্ঞ পেসার বাধ্যতামূলক ছিল। তার উপর বিরাট আবার টস শেষে দাবি করলেন, তিনিও নাকি ফিল্ডিং নিতেন। তার পরেও দুই পেসার? সিমিং উইকেটে? ব্যাখ্যাহীন! লর্ডসে বাজছে সেই কোরাস—‘হোয়ার ইজ ইয়োর কোহলি গন?/ উই হ্যাভ জিমি অ্যান্ডারসন!’





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here