AADHAAR:aadhaar uidai’s bid to hire social media agency a pil filed by trinamool congress mla mohua moitra | নজরদারির অভিযোগে বিদ্ধ আধার কর্তৃপক্ষ

0
13


অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি

ফের নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনে নজরদারির অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে৷ এই অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন তৃণমূল বিধায়ক মহুয়া মৈত্র। নিশানায় আধার কার্ডের নিয়ামক কেন্দ্রীয় সংস্থা ইউআইডিএআই৷ এই সংস্থা ‘সোশ্যাল লিসনিং টুল’ তৈরি করতে চেয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে এবং এর মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে নজরদারি চালানো হবে বলে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে অভিযোগ জানিয়েছেন মহুয়া৷ এতে সংবিধানের ১৪, এবং ২১ ধারা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ৷ শীর্ষ আদালতে দায়ের করা আবেদনে তৃণমূল বিধায়কের প্রশ্ন – একটি সংস্থা কী করে সোশ্যাল লিসনিং টুলের সাহায্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আধার সংক্রান্ত সব অনলাইন কথোপকথনের উপরে নজর রাখতে পারে এবং তার পরে আধারের বিরুদ্ধে কোনও আলোচনা হলে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে?

এই মামলার শুনানিতেই শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ৷ কেন্দ্রের আচরণে ক্ষুব্ধ বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের প্রশ্ন – হচ্ছেটা কী? এখনও আধার মামলার রায়দান হয়নি। তার আগেই আপনারা সাধারণ মানুষের উপরে নজদারির আরও একটি পন্থা নিয়ে উপস্থিত হলেন? প্রশ্নের মুখে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে যান ইউআইডিএআই-এর আইনজীবী৷ সংস্থার তরফে গত ১৮ জুলাই জারি করা বিজ্ঞপ্তি নিয়ে তিনি কোনও কথা বলার আগেই বিচারপতি চন্দ্রচূড় জানতে চান – কেন্দ্রীয় সরকারই তো কিছুদিন আগে জানিয়েছিল, সরকারের তরফে সাধারণ মানুষের জীবনে নজরদারি নিয়ে কোনও সোশ্যাল মিডিয়া হাব গঠনের প্রস্তাব নেই৷ তার পরে এমন পদক্ষেপ কেন? এর পরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা নির্দেশ দেন, তাঁরা অ্যাটর্নি জেনারেলের সহায়তা চান৷ আগামী মঙ্গলবার এ নিয়ে কেন্দ্রের মতামত জানাবেন অ্যাটর্নি। সেদিনই হবে মামলার পরবর্তী শুনানি৷ মহুয়ার হয়ে শুক্রবার শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মহম্মদ নিজাম পাশা ও রঞ্জিতা রোহতগি৷

সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সোশ্যাল মিডিয়া হাব তৈরির জন্য কিছুদিন আগে উদ্যোগী হয়েছিল কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক৷ এর তীব্র বিরোধিতা করে শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন মহুয়া৷ সেই মামলার পর্যবেক্ষণে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় মন্তব্য করেছিলেন, ‘সরকারের এমন পদক্ষেপে দেশ নজরদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে।’ মামলার শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসে৷ সরকারের তরফে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে ভেনুগোপাল আদালতকে জানান, সোশ্যাল মিডিয়া হাব গঠনের জন্য যাবতীয় উদ্যোগ বন্ধ করা হয়েছে৷ তার পরে কী ভাবে আধার কার্ডের নিয়ামক সংস্থা আরও একবার টুইটার, ফেসবুক, ইউটিয়ুব, গুগল প্লাস ও আরও সোশ্যাল মিডিয়ার উপরে নজরদারি করতে চাইছে, সেই প্রশ্নই তুলেছেন মহুয়া৷

অন্যদিকে, সরকারের এই উদ্যোগের মধ্যে সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা ভঙ্গ হওয়ার পাশাপাশি ডেটা সুরক্ষা নিয়েও আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন তৃণমূল বিধায়ক৷ নিজের আবেদনে শীর্ষ আদালতের কাছে তিনি জানতে চেয়েছেন – এই উদ্যোগে কাজ করবেন বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা। তাঁদের হাতে সাধারণ মানুষের ডেটা কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে৷ আধার সংযুক্তিকরণের বৈধতা নিয়ে মামলার রায় এখনও বেরোয়নি। তার আগে এমন একটি পদক্ষেপ কী ভাবে নেওয়া যায়?





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here