health & fitness: lack of self-awareness of cognitive deficits in alzheimer’s disease – সচেতনতার অভাবেই স্মৃতিভ্রংশ

0
19


এই সময়: বাড়ির সবচেয়ে প্রবীণ সদস্যের হয়তো রোজনামচার অভ্যাসটা প্রায়ই ঘেঁটে যাচ্ছে! কিংবা স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনা না-করেই ভুলভাল কাজ করছেন তিনি! অথবা অতিপরিচিতের সঙ্গেও আচমকা অযাচিত আচরণ করছেন মাঝমধ্যে!

এগুলো কি আদৌ তেমন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় সাধারণ গেরস্থালিতে? শুক্রবার বিশ্ব অ্যালঝেইমার্স দিবসে সে প্রশ্নটাই বারংবার ঘুরেফিরে উঠল বিভিন্ন মিটিং-সেমিনারে। যদিও বিশেষজ্ঞদের আক্ষেপ, ষাটোর্ধ্ব, সত্তরোর্ধ্ব কিংবা অশীতিপর ব্যক্তিদের আচমকা অসংলগ্ন আচরণ কিংবা ভুলে যাওয়ার বাতিককে সচেতনতার অভাবে এখনও নিছক ‘বুড়ো বয়সের ভীমরতি’ হিসেবেই দেখে সিংহভাগ পরিবার। ফলে অ্যালঝেইমার্সের মতো স্মৃতিভ্রংশের সমস্যা উল্কাগতিতে বেড়েই চলেছে সমাজ-সংসারে।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, দেশে কমপক্ষে ৪১ লক্ষ মানুষ বর্তমানে স্মৃতিভ্রংশের শিকার, যার মধ্যে এ রাজ্যেই সংখ্যাটা লাখ দুয়েকের কম হবে না। বয়স্করোগ বিশেষজ্ঞ ধীরেশকুমার চৌধুরী জানান, দৈনন্দিন ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে তিনি দেখছেন, ব্যাপক হারে ক্রমাগত স্মৃতিভ্রংশের রোগী বাড়ছে তাঁদের চেম্বারে। তিনি বলেন, ‘নানা কারণে স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়া হয়। কিন্তু প্রায় ৮০% ক্ষেত্রেই দেখা যায় তা অ্যালঝেইমার্সের কারণে। মুশকিল হচ্ছে, এ অসুখটা আদতে মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয়িষ্ণু রোগ। ফলে সারে না। এর চিকিৎসা বলতে বস্তুত ম্যানেজমেন্ট। অর্থাৎ কিছু ওষুধপত্র এবং তার সঙ্গে সেবা-যত্ন-শুশ্রূষা।’

আর এক বয়স্করোগ বিশেষজ্ঞ অরুণকুমার মজুমদার জানান, মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয়জনিত এই অসুখ আমৃত্যু ক্রমাগত বেড়েই চলে। সঠিক সময়ে রোগনির্ণয় হলে এ রোগের আগ্রাসনটা অবশ্য ঠেকানো যায়। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয়ের পক্ষে সওয়াল করছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তা না-হওয়ায় বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, প্রতি ১৬টি পরিবারের মধ্যে অন্তত একটিতে একজন করে স্মৃতিভ্রংশের রোগী রয়েছেন এ দেশে। পরিসংখ্যান বলছে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে ১.৫৩% মানুষ স্মৃতিভ্রংশের রোগী। ২০১৫-র একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ষাটোর্ধ্বদের মধ্যে ৩.৭০% এবং নবতিপরদের মধ্যে ৪৪% ব্যক্তি স্মৃতিভ্রংশের শিকার।

প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে দীর্ঘ দিন কর্মরত একটি সংস্থার অন্যতম কর্ণধার পেশায় চিকিৎসক রানা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এই সমস্যাটা চিরকালই ছিল। কেউ বলত ভীমরতি, কেউ বা বলত বাহাত্তুরে। কিন্তু আগে ক’জন মানুষই বা ৭০-৮০ বছরের গণ্ডি টপকাতেন! চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন যেহেতু মানুষের গড় আয়ু ঢের বেড়ে গিয়েছে, তাই অ্যালঝেইমার্সের মতো সমস্যা জ্বলন্ত হয়ে দেখা দিয়েছে সমাজে।’ অথচ তাঁর অভিজ্ঞতা, এ নিয়ে সচেতনতা তলানিতে বলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসা তো দূরের কথা, রোগনির্ণয়টাই যথাযথ হয় না। তাঁর কথায়, ‘লোকে ভাবে, স্মৃতিভ্রংশ মানে হল, আক্রান্ত ব্যক্তি সব ভুলে যাবে। ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। বহু পুরোনো স্মৃতি অটুট থাকে এ রোগে। অথচ হারিয়ে যায় সাম্প্রতিক স্মৃতি। পাশাপাশি ধীরে ধীরে লোপ পেতে শুরু করে স্বাভাবিক বোধবুদ্ধি।’





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here