Inland Waterways Authority of India:roll on roll off vessel service has decided to launch | সেতুর চাপ কমাবে রো রো পরিষেবা

0
20


তাপস প্রামাণিক


বন্দর থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাককে আর কলকাতা শহরে ঢুকতে হবে না। সেতু ও উড়ালপুলও পেরোতে হবে না। বন্দর থেকে মালপত্র বোঝাই বড় বড় ট্রাকগুলি যাতে গঙ্গাপথেই শহরের বাইরে চলে যেতে পারে, সেই লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই গঙ্গায় ‘রো রো ফেরি সার্ভিস’ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া।

পরিকল্পনা অনুসারে, খিদিরপুর ডকে জাহাজের পণ্য বোঝাই করার পরে ট্রাকগুলি কাছেই ইনল্যান্ড ওয়াটার ওয়েজ অথরিটির নিজস্ব জেটিতে পৌঁছবে। সেখানে ট্রাকগুলিকে রো রো (রোল অন রোল অফ) ভেসেলে তোলা হবে। ভেসেলে চড়েই সেগুলি সোজা কোলাঘাট অথবা ব্যান্ডেলে পৌঁছবে। সেখান থেকে মালবোঝাই ট্রাক নিয়ে বন্দরে ফিরবে রো রো ভেসেল।

সে জন্য কোলাঘাটে একটি নতুন টার্মিনাল বানানোর কাজ শুরু করেছে আইডব্লিউএআই। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এ জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরশন জমি দিয়েছে। জেটিতে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করে দিচ্ছে রাজ্য সেচ দপ্তর। আইডব্লিউএআইয়ের উদ্যোগে ব্যান্ডেলে একটি নতুন জেটি তৈরি হয়েছে। বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং শালকিয়াতেও তারা জেটি তৈরি করেছে। শুধু তাই নয়, ফলতা এসইজেড অঞ্চলে জাহাজে মাল তোলা ও নামানোর জন্য যে পুরোনো জেটি আছে, সেটিকে অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। তার ট্রায়াল রানও হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক ছাড়পত্র দিলে সেখান থেকে জলপথে পণ্য পরিবহণ এবং রো রো সার্ভিস চালু হবে। এই প্রকল্পের প্রধান কারিগর হলেন বাঙালি নাভাল আর্কিটেক্ট, ক্যাপ্টেন অঞ্জন সিনহা।

গঙ্গাবক্ষে রো রো সার্ভিস চালু করার জন্য পরামর্শদাতা হিসাবে তাঁকে নিয়োগ করেছে আইডব্লিউএআই। গঙ্গায় পণ্য পরিবহণের জন্য জাহাজের নকশা তৈরির কাজেও তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তাঁর দাবি, সব ঠিক থাকলে তিন-চার মাসের মধ্যে কোলাঘাটে টার্মিনাল তৈরি হয়ে যাবে। তাঁর কথায়, ‘কোলাঘাট টার্মিনাল চালু হলে গঙ্গাপথে বিপ্লব ঘটে যাবে। তখন আর কলকাতা বন্দর থেকে পণ্যবোঝাই বড় ট্রাকগুলিকে শহর পেরোতে হবে না। সেতু ও উড়ালপুলের উপর দিয়েও যেতে হবে না। খিদিরপুর কিংবা ফলতা জেটি থেকে মালবোঝাই ট্রাকগুলিকে রো রো ভেসেলে চাপিয়ে কোলাঘাটে পৌঁছে দেওয়া হবে। এই ধরনের ভেসেলে একসঙ্গে ২০-২৫টি পণ্যবোঝাই ট্রাক নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী সেতুতে ওভারলোডিং কমানোর কথা বলছেন। রো রো সার্ভিস পুরোদমে চালু হলে, সেটা নিজে থেকেই কমবে। শহরের যানজট এড়ানোও সম্ভব হবে।’তিনি জানান, কোলাঘাটে টার্মিনাল চালু হলে জামশেদপুর, উলুবেড়িয়া, খড়্গপুর, মেদিনীপুর শিল্পাঞ্চল থেকে পণ্যসামগ্রী জলপথে সরাসরি কলকাতা বন্দরে চলে আসবে। সে জন্য কলকাতা শহরে বড় বড় ট্রাক ঢোকানোর দরকার হবে না। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার কাছে একাধিক সিমেন্ট কারখানা তৈরি হয়েছে। সেই সিমেন্টও কোলাঘাট থেকে গঙ্গা হয়ে কলকাতায় পৌঁছবে। কোলাঘাট ও ব্যান্ডেল থেকে নদীপথে ফ্লাইঅ্যাশ পাঠানো হবে বাংলাদেশে। বর্তমানে ব্যান্ডেল থেকে ফলতায় গঙ্গাপথে চাল যাচ্ছে। সেখানে চাল থেকে অ্যালকোহল তৈরি হচ্ছে।





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here