madhyamik:west bengal madhyamik and higher secondary test examination question row | শিক্ষক নেই, টেস্টের প্রশ্নকর্তা কে

0
20


স্নেহাশিস নিয়োগী

গত সাত বছরে রাজ্যে বহু নতুন স্কুল হয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার মাধ্যমিক স্কুল উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়েছে। অনুমোদিত হয়েছে নতুন শিক্ষক পদ। কিন্তু ছ’বছরে নিযুক্ত হননি একজনও শিক্ষক। যার জেরে স্কুলগুলিতে শিক্ষকের অভাব প্রকট। বোঝার উপর শাকের আঁটির মতো তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বদলি ‘কেলেঙ্কারি’। বহু স্কুলেই বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাব। অথচ রাজ্যের নয়া ফরমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে টেস্টের প্রশ্নপত্র করতে হবে স্কুলকেই। পুজোর ছুটি মিটলে টেস্ট। বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে কী ভাবে এই ‘চ্যালেঞ্জ’ সামলানো যাবে, সেটা ভেবে উঠতে পারছেন না শিক্ষকরা। এতদিন বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের টেস্টের প্রশ্নপত্র দিয়েই সামাল দেওয়া হত পরিস্থিতি। কিন্তু এ বার নয়া সঙ্কটে সব পক্ষ

পরিস্থিতি কী রকম? গড়িয়ার বালিয়া নফরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে ভূগোল, অর্থনীতি, গণিত, পরিবেশ বিদ্যা, জীবন বিজ্ঞানের শিক্ষিকা নেই। মুর্শিদাবাদের ডোমকল বালিকা বিদ্যাপীঠে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা ও অর্থনীতির শিক্ষিকা নেই। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর হাইস্কুলেও পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিতের শিক্ষকের অভাব। ডায়মন্ড হারবার ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ প্রণব বিদ্যাপীঠের একই হাল। ২০১৬-য় উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান ও কলা শাখা চালু হলেও কোনও বিষয়ে শিক্ষক আসেননি। ভরসা বলতে মাধ্যমিক স্তর আর আংশিক সময়ের শিক্ষকরা। পাথরপ্রতিমা আনন্দলাল হাইস্কুলেও রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও বাণিজ্যের পাশাপাশি বিজ্ঞানের কোনও বিষয়ের শিক্ষক নেই। উত্তর ২৪ পরগনার দক্ষিণ চাতরা হাইস্কুলে ইংরেজি, জীবন বিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যায় এই অবস্থা। দুর্বাচটি জগন্নাথ আদর্শ হাইস্কুলেও এডুকেশন, ইতিহাস এবং দর্শনের শিক্ষক নেই।

বিকাশ ভবনের কর্তারা জানাচ্ছেন, এ হল ‘হিমশৈলের চূড়া’। তৃণনমূল আমলে ২,২৩৭টি মাধ্যমিক স্কুলকে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত করা হয়েছে। উচ্চ প্রাথমিক থেকেও বহু স্কুল মাধ্যমিক হয়েছে। বাম জমানায়, যখন ফি বছর এসএসসি-র পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হত, তখনও বিজ্ঞানের বিষয়, ইংরেজি, অর্থনীতি এবং ভূগোলে সংরক্ষিত-অসংরক্ষিত আসনে কয়েক হাজার প্রার্থী পাওয়া যেত না। এই আমলে এসএসসি-র সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে। তাই সব মিলে স্কুলে স্কুলে শিক্ষকের তীব্র সঙ্কট।

তা হলে স্কুলগুলি চলছে কী করে! আধিকারিকরা জানান, এক বছরের চুক্তির ভিত্তিতে অস্থায়ী শিক্ষকদের দিয়ে স্কুলের নতুন ক্লাস শুরু হচ্ছে। অথবা মাধ্যমিক স্তরের যে শিক্ষকদের অনার্স-পিজি আছে, মানে যাঁরা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পড়ানোর যোগ্য, তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করে ‘ঠেকা’ দিয়ে কোনওক্রমে চলছে পঠনপাঠনের কাজ।

বালিয়া নফরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুনু জানা বলেন, ‘পড়াতে অনেকেই পারেন। কিন্তু যাঁরা অস্থায়ী ভাবে বা চুক্তির ভিত্তিতে ক্লাস নেন, তাঁরা তো উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা দেখার সঙ্গে যু্ক্ত নন। প্রশ্নপত্র সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল নন। তা হলে কে প্রশ্ন করবে?’ একই সুর ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ প্রণব বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক কমলকুমার পাত্রের। তাঁর কথায়, ‘গত বছর উচ্চ মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র শিক্ষক সংগঠনের থেকে কেনা হয়েছিল। এ বার মাধ্যমিকের ক্ষেত্রেও এ পথে হাঁটার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু পর্ষদ ও সংসদের নির্দেশের পরে কী হবে জানি না।’ যদিও পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়কে ফোন করা হলে, একজন তা ধরে বলেন, ‘উনি এখানে ফোন রেখে স্ট্রং রুমে গিয়েছেন।’ আর সংসদ সভাপতি মহুয়া দাস শহরের বাইরে থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here