nation: now triple talaq is criminal offence in india – তিন তালাকে অধ্যাদেশ কেন্দ্রের

0
18


অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় ■ নয়াদিল্লিতিন তালাককে অবৈধ এবং অপরাধ ঘোষণা করে আইন পাশের লক্ষ্যে অর্ডিন্যান্স আনল কেন্দ্র৷ বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অর্ডিন্যান্স অনুমোদন করা হয়েছে। রাজ্যসভায় রাজনৈতিক বিবাদে তিন তালাক বিল আটকে থাকার পরেই আনা হচ্ছে অর্ডিন্যান্স৷ অধ্যাদেশের পরে তিন তালাক তখনই অপরাধযোগ্য গণ্য হবে, যখন কোনও নিপীড়িত মহিলা নিজে বা তাঁর কোনও আত্মীয় (যাঁর সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে) পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাবেন৷ অধ্যাদেশে অবশ্য স্ত্রী-র তরফে সমঝোতারও সুযোগ রাখা হয়েছে৷ তিন তালাক নিয়ে স্ত্রীর অভিযোগ শোনার পরে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত স্বামীর জামিনও মঞ্জুর করতে পারবেন৷ নাবালক সন্তানদের অভিভাবকত্ব পাবেন মা। স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের খোরপোশ সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আদালত৷

লোকসভায় তিন তালাক বিল পাশের পরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির ‘অসহযোগিতা’র জন্য তা রাজ্যসভায় পাশ করা যায়নি, এমনই দাবি কেন্দ্রের। ফলে বাধ্য হয়েই ‘সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা’র খাতিরে সরকারকে এই অর্ডিন্যান্স আনতে হচ্ছে বলে বুধবার জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ৷ রাজ্যসভায় বিল আটকে রাখার জন্য কংগ্রেসকে নিশানাও করেন তিনি৷ তাঁর কথায়, ‘তিন তালাকের ঘটনা ঘটেই চলেছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও৷ এই বিষয়ে আইন প্রণয়নের জন্য আমরা কংগ্রেসকে সঙ্গে নেওয়ার অনেক চেষ্টা করেছি৷ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গুলাম নবি আজাদের সঙ্গে পাঁচ বার আলোচনা করেছি৷ ভোট-ব্যাঙ্ক রাজনীতির জন্যই কংগ্রেস এই বিলকে সমর্থন করেনি৷ সনিয়াজির মতো অভিজ্ঞ নেত্রী থাকা সত্ত্বেও মহিলাদের উপর অত্যাচার চলছে, তিনি চুপ থাকেন কী করে?’ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বসপা সুপ্রিমো মায়াবতীর সহায়তাও চেয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও সারা দেশে তিন তালাকের ঘটনা ঘটছে, এর মধ্যে সব থেকে বেশি উত্তরপ্রদেশে ঘটেছে (রায়ের পরে ১২০টি ঘটনা) বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷ পরিসংখ্যান পেশ করে তিনি বলেন, ‘গত বছরে সুপ্রিম কোর্ট তিন তালাক নিষিদ্ধ করেছিল৷ জানুয়ারি ২০১৭ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত ৪৩০টি তিন তালাকের ঘটনা আমরা জানতে পেরেছি৷ এর মধ্যে ২২৯টি ঘটেছিল সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগেই, ২০১টি পরে৷’

তিন তালাককে কেন্দ্র করে সরকারের অর্ডিন্যান্স আনার পদক্ষেপের অবশ্য তুমুল সমালোচনা করেছে কংগ্রেস৷ তাদের বক্তব্য, মোদী সরকার তিন তালাককে রাজনৈতিক ফুটবলের মতো ব্যবহার করছে এবং সব কৃতিত্ব নিতে চাইছে৷ কংগ্রেসের নেতারাও সুপ্রিম কোর্টে মহিলাদের সুরক্ষার দাবিতে সওয়াল করেছেন৷ মহিলাদের ন্যায় দেওয়ার ক্ষেত্রে তিন তালাক দেওয়া স্বামীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও দাবি জানিয়েছিল কংগ্রেস৷ কিন্তু মোদী সরকার তা গ্রাহ্য করেনি৷ আসলে সরকার চাইছে না মুসলিম মহিলারা ন্যায় পান, তিন তালাক দেওয়া স্বামীরা জেলে যাওয়ার পরে স্ত্রীরা ক্ষতিপূরণ পান৷

সামাজিক একটি সমস্যার আইনি প্রতিবিধান কতটা সম্ভব, সে প্রশ্নও রয়েছে। স্বামী জেলে চলে গেলে খোরপোশ, ক্ষতিপূরণের কী হবে, একই কারণে দু’ধরনের সাজা কতটা সংবিধানসম্মত— সে সব নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here