social media: social media addiction is a bigger problem – ‘সোশ্যাল’ মোহ কাটাতে ভরসা শুদ্ধকরণ

0
21


মৈত্রেয়ী ভট্টাচার্য

কুশল মুখোপাধ্যায়। পেশায় চিকিৎসক। একটা সময় বই পড়ার নেশা ছিল তাঁর। তবে, গত কয়েক মাসে কোনও বই শেষ করা দূরঅস্ত্‌, ছুঁয়েও দেখেননি। রোজ সকালের খবরের কাগজের পাতাটাও ওল্টানো হয় না ঠিক মতো। কোনওটাই কাজের চাপে নয়। তাঁর নতুন বন্ধু, সোশ্যাল সাইটের সৌজন্যে। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রোগী দেখার ফাঁকে, দিনরাত তাঁর চোখ থাকে ফেসবুক, টুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপে। শুধু এই চিকিৎসকই নন।

মোবাইল আর নানা গ্যাজেটের ব্যবহার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে সারা বিশ্বের কয়েক কোটি মানুষের। এতে সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন তাঁরা।

সারা দেশে তো বটেই, এ রাজ্যেও গ্যাজেট আর সোশ্যাল সাইটের মোহ দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের। পরিস্থিতি আরও খারাপ প্রথম বিশ্বের দেশগুলিতে। অবস্থার গুরুত্ব বিচার করে ইংল্যান্ডের রয়্যাল সোসাইটি ফর পাবলিক হেলথ সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে সোশ্যাল সাইট ব্যবহার না করার ডাক দিয়ে ‘নো স্ক্রল সেপ্টেম্বর’ পালনের উদ্যোগও নিয়েছে!


এই মোহ কাটাতে এ রাজ্যের মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন ডিজিটাল ডিটক্স-এর। যেমনটা কুশলের ক্ষেত্রে হয়েছে। এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সহকর্মীর পরামর্শে আপাতত ডিজিটাল ডিটক্স শুরু করেছেন তিনি। ডিজিটাল ডিটক্স বিষয়টা ঠিক কী? ডিটক্সের অর্থ হল শুদ্ধকরণ। চিকিৎসকদের মতে, ডিজিটাল দুনিয়ার মোহে মত্তদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের যে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তা বিষক্রিয়ারই সামিল। মেন্টাল হেলথ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত মনোবিদ পরমিত সোনি বলেন, ‘সারাদিন মোবাইল ফোনে মুখ গুঁজে হয় গেমিং বা সোশ্যাল দুনিয়ায় মত্ত অনেকেই নাওয়া-খাওয়া পর্যন্ত ভুলে যান। খাবার সময় হাতে মোবাইল, বাথরুমে গিয়েও ফোনে ব্যস্ত। অনেকে তো গেম চলতে থাকায় দিনের পর দিন স্নান পর্যন্ত করেন না। এতে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।’

সমস্যাটা এ শহরে কোন জায়গায় পৌঁছেছে? মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রাজর্ষী নিয়োগীর কথায়, ‘অত্যন্তই খারাপ জায়গায়। এর বড় কারণ হল এখানে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এর ব্যবহার পুরোপুরি অনিয়ন্ত্রিত। কোথায় ব্যক্তিগত বা সামাজিক জীবনকে প্রাধান্য দিতে হবে, সেই পরিমিতি বোধ হারিয়ে ফেলছেন মানুষ।’ সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মোহয় যে শুধু অল্পবয়সিরা আক্রান্ত, তা-ও কিন্তু নয়। রাজর্ষির কথায়, ‘শুধু কিশেরা-কিশোরী এবং তরুণ-তরুণীরাই এই নেশায় আক্রান্ত, তা কিন্তু নয়। কলকাতার ওয়ার্কিং ক্লাসের (১৮-৬০ বছর বয়সি) একটা বড় অংশ এই নেশায় আক্রান্ত।’

ঘটনা হল, শুধু মোবাইল ফোন বা গ্যাজেটের ব্যবহার বন্ধে পরামর্শ দিয়েই কাজ হচ্ছে না। অনেকের ক্ষেত্রেই নেশা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে যে তা ছাড়ানোর জন্য ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত রাখতে হচ্ছে। যেমন, সম্প্রতি এক উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়ার ক্ষেত্রে এমনটা করতে বাধ্য হয়েছিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রথমা চৌধুরী। তার কথায়, ‘ও কিছুতেই ফোন ছেড়ে থাকতে পারছিল না। তার ফোন কেড়ে নেওয়া হলে মায়ের গয়না বিক্রি করে ফের মোবাইল কিনে সোশ্যাল সাইটে মজেছিল সে। এর জন্য ওকে ভর্তি রেখে নেশামুক্তির চিকিৎসা করকে হয়। এটা অবশ্য মদ বা সিগারেটের নেশা ছাড়াতে যে রকম করা হয়, ততটা কড়া নয়।’





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here