state consumer court: state consumer court orderd 10 lakh rupees for wrong report – বর্ণান্ধতার ভুল রিপোর্টে হঠাৎ স্বপ্নভঙ্গ পড়ুয়ার

0
16


সাগরে কাজ করার ইচ্ছা ছিল পাহাড়ের প্রিয়ম গুরুংয়ের। প্রচুর টাকা কোর্স ফি দিয়ে ভর্তিও হয়েছিলেন একটি বেসরকারি কলেজের নটিক্যাল সায়েন্সে তিন বছরের স্নাতক কোর্সে।

EiSamay |
Updated:

state consumer court orderd 10 lakh rupees for wrong report

হিমাদ্রি সরকার

সাগরে কাজ করার ইচ্ছা ছিল পাহাড়ের প্রিয়ম গুরুংয়ের। প্রচুর টাকা কোর্স ফি দিয়ে ভর্তিও হয়েছিলেন একটি বেসরকারি কলেজের নটিক্যাল সায়েন্সে তিন বছরের স্নাতক কোর্সে। এই ধরনের কোর্সে ভর্তি হওয়ার আগে মেডিক্যাল পরীক্ষা হয় আবেদনকারীর। তাতে কিছু খামতি থাকলে সেই আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়।

গড়িয়াহাট রোডে একটি ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি থেকে মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়ে সেই রিপোর্ট কলেজে জমা দিয়েছিলেন প্রিয়ম। ওই ল্যাবরেটরির রিপোর্ট দেয়, প্রিয়মের বর্ণান্ধতার কোনও সমস্যা নেই। সেই ফিট সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে নটিক্যাল সায়েন্সের স্নাতক স্তরে ভর্তি হয়ে যান প্রিয়ম। সাগর ছোঁয়ার স্বপ্নের পথে এক পা এগিয়ে গেলেন বলেই ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি। বছরখানেক পরে প্রিয়মের ফের মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়। তখন চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, প্রিয়মের বর্ণান্ধতা রয়েছে। তিনি এই কোর্সের পক্ষে অনুপযুক্ত। ফলে মাঝপথেই কোর্স ছাড়তে হয় প্রিয়মকে।

ভুল রিপোর্টের ফাঁদে স্বপ্ন চুরি গেল প্রিয়মের। এর দায় কার? কোর্স ছাড়তে বাধ্য হয়ে তাই ক্রেতাসুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রিয়ম। প্রথম যে সংস্থাটি ফিট সার্টিফিকেট দিয়েছিল, তাদের ভুল রিপোর্ট দেওয়ার দায়ে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছে রাজ্য ক্রেতাসুরক্ষা আদালত।বিচারপতি ঈশানচন্দ্র দাস ও তারাপদ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চ জানিয়েছে, গড়িয়াহাটের ওই ল্যাবরেটরিকে এক পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার জন্য ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে। ওই ল্যাবরেটরির পাশাপাশি কলেজের বিরুদ্ধেও মামলা করেছিলেন প্রিয়ম। আদালত অবশ্য ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করে দেয়।এক বছর আগে মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টে প্রিয়মের বর্ণান্ধতা নেই বলা হলেও এক বছরে তা বদলে গেল কীভাবে?শহরের এক নামী চক্ষু বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা, বর্ণান্ধতা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জন্মগত রোগ। তবে খুব গুরুতর কিছু অসুখের পর বর্ণান্ধতা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে শুধু বর্ণান্ধতা নয়, রোগীর দৃষ্টিশক্তিও ক্ষীণতর হবে। সেটা না-হলে যদি এক বছর পর রিপোর্টে দেখা যায়, রোগীর বর্ণান্ধতা রয়েছে, তাহলে তা খুব স্বাভাবিক নয়। সেক্ষেত্রে রিপোর্টে গরমিল থাকার সম্ভাবনাই বেশি।আদালতে সেই রিপোর্ট নিয়েই সওয়াল করেন প্রিয়মের আইনজীবী। ২০১৪-এর জুলাইয়ে শারীরিক সক্ষমতা সংক্রান্ত ওই রিপোর্টটি দিয়েছিল গড়িয়াহাটের ল্যাবরেটরি। সেই রিপোর্টে ছাড়পত্র পেয়ে মোটা টাকার কোর্স ফি দিয়ে কলেজে যোগ দেন প্রিয়ম। ২০১৫-এর মার্চে কলেজ কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় দফায় মেডিক্যাল পরীক্ষা হয় অন্য একটি নার্সিংহোমে।


তাতে প্রিয়মকে বর্ণান্ধ বলে জানানো হয়। প্রিয়মের আইনজীবী আদালতে জানান, প্রথমেই মেডিক্যাল পরীক্ষায় তাঁর যে বর্ণান্ধতা রয়েছে, তা ধরা পড়লে এত টাকা কোর্স ফি দিয়ে কলেজে ভর্তিই হতেন না তাঁর মক্কেল। এতে গোটা পরিবারটিকেই স্বপ্নভঙ্গ এবং বিপুল আর্থিক ক্ষতিজনিত মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। তার দায় অস্বীকার করতে পারে না ল্যাবরেটরি কর্তৃপক্ষ। তাদের তরফ থেকে পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয়, ওই কলেজের আরও অনেক পড়ুয়াই তাদের কাছে মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়েছিল। তাঁদের কারও ক্ষেত্রেই কোনও অসঙ্গতি নেই। প্রিয়মের অভিযোগ পুরোপুরি মনগড়া বলেও অভিযোগ করে তারা। তবে তাদের সে যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে রাজ্য ক্রেতাসুরক্ষা আদালত। ল্যাবরেটরি কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে জাতীয় আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে।

Web Title: state consumer court orderd 10 lakh rupees for wrong report

(Bengali News from Eisamay , TIL Network)





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here