student unrest may lead presidency university convocation to raj bhaban | উত্তপ্ত প্রেসিডেন্সি ক্যাম্পাস, প্রথা ভেঙে সমাবর্তন নন্দনে

0
16


এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: ভারত বনধের দিন প্রেসিডেন্সির প্রবেশদ্বারে ঝুলল তালা। সমাবর্তন অনুষ্ঠান নন্দনে করার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

এদিন সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ কলেজ স্ট্রিটে প্রেসিডেন্সির প্রধান ফটকে ধরনায় বসা ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা তালা ঝুলিয়ে দিলে ঢুকতে পারেননি উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তালা ঝোলানো হয় ক্লাসঘর, গ্রন্থাগার, মিউজিয়াম-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে। প্রবেশদ্বারে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের পোস্টার ঝুলিয়ে দেন ছাত্রছাত্রীরা। গেটের সামনে পৌঁছেও আটকে যান উপাচার্য। রেজিস্ট্রার-সহ শিক্ষক শিক্ষিকাদের বেশ কিছু ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাঁরা ফিরে যান।

দীর্ঘ মেয়াদী ছাত্র ধরনার জেরে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত সমাবর্তন অনুষ্ঠান বাতিল করা হল। সোমবার বিকেলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে রাজ্যপাল তথা আচার্য কেশরীনাথ ত্রিপাঠির পরামর্শ চান। বিকেলে উপাচার্যের কাছে সমাবর্তন নিয়ে রাজ্যপালের তরফে প্রথমে বিকল্প প্রস্তাব আসে। জানা যায়, মঙ্গলবার ওই অনুষ্ঠান রাজভবনে করার পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যপাল। সূত্রের খবর, রাজ্যপাল স্বয়ং প্রেসিডেন্সিতে আসতে চান না। তিনি চাইছেন, সমাবর্তনে তাঁর ভূমিকা পালন করুন উপাচার্য।

এদিন প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল বডির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রশ্ন ওঠে, ওই বৈঠক ছাড়া সমাবর্তন আইনত আদৌ সম্ভব কি না। সূত্রে খবর পাওয়া যায়, শুধুমাত্র ডিলিট ও ডিএসসি দিয়ে টোকেন অনুষ্ঠান করার চিন্তা করছেন প্রেসিডেন্সি কর্তৃপক্ষ।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবজ্যোতি কোনার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সমাবর্তন অনুষ্ঠান নন্দন ৩ প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

প্রসঙ্গত, হিন্দু হোস্টেল ফেরতের দাবিতে প্রেসিডেন্সির কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে দীর্ঘ দিন যাবত অবস্থান করছেন ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা। ছাত্র বিক্ষোভ চললেও কোনও পরিস্থিতিতেই তিনি পুলিশ ডাকবেন না বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া। তবে তাঁর মতে, সমাবর্তনের আগে ছাত্রদের এই আন্দোলন অনৈতিক।

এদিকে প্রেসিডেন্সির ছাত্র আন্দোলন সম্পর্কে এদিন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তো আর কারখানা নয় যে, তালা লাগালাম আর চলে গেলাম। এই রাজনীতিটা আসলে গত ৩৪ বছর ধরে ওরা শিখে এসেছে। কর্তৃপক্ষও সেই প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারেননি। দেখছেন, কিন্তু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না। মানবিক দিক থেকে হোস্টেলের বিষয়টি দেখতে হবে। হস্টেল যেন দ্রুত সংস্কার করা হয়, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে।’

উল্লেখ্য, অগাস্টের প্রথম সপ্তাহেও হোস্টেল ফেরতের দাবিতে উত্তাল হয়েছিল প্রেসিডেন্সি। তখন থেকেই ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাত্রিযাপন করছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হিন্দু হোস্টেল সংস্কারের কাজ চলছে। তত দিন পর্যন্ত পড়ুয়াদের থাকার রাজারহাটের একটি সরকারি আবাসনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পড়ুয়াদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বাসের ব্যবস্থাও করেছেন কর্তৃপক্ষ।





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here