sucide: body of father and son found in room at garia – বিছানায় পড়ে ছেলের দেহ, সিলিং থেকে ঝুলছেন বাবা

0
14


কাচের জানলা দিয়ে বন্ধ ঘরে উঁকি মেরে চমকে গিয়েছিলেন প্রতিবেশীরা।

EiSamay |
Updated:

body of father and son found in room at garia

এই সময়, সোনারপুর: কাচের জানলা দিয়ে বন্ধ ঘরে উঁকি মেরে চমকে গিয়েছিলেন প্রতিবেশীরা। বিছানায় উপুড় হয়ে পড়ে বছর এগারোর ছেলের গলাকাটা দেহ। আর ঘরের কড়িকাঠ থেকে ঝুলছে মধ্যবয়স্ক বাবার দেহ। শনিবার সাতসকালে এমন হাড়হিম করা দৃশ্য দেখে ঘুম ছুটে যায় গড়িয়ার নবশ্রী বাজার লাগোয়া শিবমন্দির এলাকার বাসিন্দাদের। তাঁরাই পুলিশে খবর দেন। সোনারপুর থানার পুলিশ বন্ধ ঘর থেকে মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে। মৃতদের নাম সুব্রত দাস (৪৫) ও তাঁর নাবালক ছেলে গোপাল দাস (১১)। গোপাল স্থানীয় বরদাপ্রসাদ হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। ঘরের মধ্য থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাতে লেখা, ‘আমার এবং আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’

গড়িয়ার নবশ্রী বাজারে বহু দিন ধরে বাস দাস পরিবারের। স্থানীয়রা জানান, ন’বছর আগে সুব্রতর স্ত্রী সব সম্পর্ক ছিন্ন করে স্বামীকে ছেড়ে চলে যান। তার পর থেকে ছোট ছেলেকে একাই কোলেপিঠে করে মানুষ করেন সুব্রত। পুলিশ জানায়, সুব্রতর গ্যাসের ব্যবসা ছিল। তিনি বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সিলিন্ডার সরবরাহ করতেন। স্ত্রী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সুব্রত। ছেলেকে নিয়ে গড়িয়ার ওই ভাড়া বাড়িতেই থাকতেন৷ বাবা বাড়ি না থাকলে ছোট্ট গোপাল প্রতিবেশীদের কাছেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে থাকত। প্রতিবেশীদের পছন্দের ছিল সে। তাঁরা জানান, পরিবারটি ভালোই ছিল। সুব্রত এলাকার সকলের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তবে একটু চুপচাপ থাকতেন।

এ দিন সকালে দীর্ঘক্ষণ বাড়ির দরজা বন্ধ দেখে হতবাক হয়ে যান প্রতিবেশীরা৷ অনেক ডাকাডাকিতেও সুব্রত ও তাঁর ছেলের কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি৷ খবর পৌঁছয় বাড়িওয়ালার কাছে। বাড়িওয়ালা এসে ডাকাডাকি করলেও কোনও সাড়া মেলেনি। পরে খবর দেওয়া হয় সোনারপুর থানায়। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে অবাক হয়ে যায়। দেখা যায়, ঘরের মধ্যেই সিলিংয়ে ঝুলছে সুব্রতর দেহ৷ বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় উপুড় হয়ে পড়ে গোপালের দেহ৷ তার গলার নলি ও হাতের শিরা কাটা। পাশেই একটি রক্তমাখা ছুরি।

ঘরে পড়ে ছিল একটি সুইসাইড নোট। তাতে লেখা ছিল, ‘আমার এবং আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ ঘটনার তদন্ত করতে নেমে পুলিশ প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে, সুব্রত বেশ কিছু দিন ধরে কাজ করছিলেন না। ছেলের পড়াশোনা চালানো, বাড়ি ভাড়া দেওয়া, সংসার চালানো তাঁর পক্ষে খুব কষ্টকর হয়ে উঠছিল। অনেকের কাছ থেকে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা দেনা করেছিলেন। তার জন্য পাওনাদাররা সকাল বিকেল তাগাদা দিচ্ছিলেন। সুব্রতকে গালিগালাজও শুনতে হচ্ছিল। তার জন্য আরও মনমরা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ছেলে গত ক’দিন ধরে স্কুলেও যাচ্ছিল না। পুলিশের অনুমান, অবসাদ থেকেই সুব্রত একমাত্র ছেলেকে মেরে আত্মঘাতী হওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। পুলিশ ঘরটি সিল করে দিয়েছে।

Web Title: body of father and son found in room at garia

(Bengali News from Eisamay , TIL Network)





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here