archana palangdar: kolkata murder case: cctv footage is missing from the hotel – বহু চরিত্রের জালেই জট

0
26


এই সময়: সরল পাটিগণিত নয়। রহস্যের জটিল আবর্তে আশ্চর্য গোলকধাঁধা। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছিল, খুন এবং দেহ লোপাটের চেনাজানা ছক। রহস্যের তলে ডুব দিতেই গোয়েন্দারা বুঝেছেন, ঘটনাক্রমের পরতে পরতে থাকতে পারে তুখোড় অপরাধীদের নিপুণ হত্যা-ছক।

আনন্দপুরে জোড়া রহস্যমৃত্যুর তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ পাননি। রেজিস্টারে বলরাম কেশরী এবং অর্চনার পালংদারের নাম নেই। একটি সাদা গাড়িতে করে দু’টি দেহ পাচার করা হয়েছিল বলে জেরায় দাবি করেছে ধৃত আশিস। কিন্তু হোটেলে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকলে রেজিস্টারে তার উল্লেখ নেই কেন?

অর্চনার পালংদার

এখনও খোঁজ নেই হোটেলের ম্যানেজার জয়দেব মাহাতো এবং তাঁর বাবা হরিহরের। দু’জনই চৌবাগায় অর্চনার দেহ উদ্ধারের পরদিন থেকে নিখোঁজ। তাহলে কি দেহ লোপাটের সঙ্গে সঙ্গে সিসিটিভি থেকে রেজিস্টার— যাবতীয় প্রমাণ লোপাট করেই দু’জন গা-ঢাকা দিয়েছেন? যদি সত্যিই হোটেলে ঘর ভাড়া নেওয়া দু’জনের একজন অন্যজনকে খুন করে আত্মঘাতী হন এবং তা জানাজানি হলে ঝামেলা বাড়ার আশঙ্কায় দেহ লোপাটের ঘটনা হয়ে থাকে, তা হলে কেন এত নিপুণ পরিকল্পনা কেন?

ঘটনা হল, বলরাম, জয়দেব, হরিহর এবং ধৃত আশিস যাদবের কোনও না কোনও ভাবে ঝাড়খণ্ড-যোগ রয়েছে। আপাতত যে যোগসূত্র গোয়েন্দারা পেয়েছেন, তাতে এই ‘চতুরঙ্গের’ বাইরেও একাধিক চরিত্র থাকতে পারে বলরাম-অর্চনার রহস্যমৃত্যুর নেপথ্যে। জট এমনই যে, পুরো ঘটনাটি অর্চনাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, এমন সম্ভাবনাও খারিজ করছেন না তদন্তকারীরা।

অর্চনাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল বলে ময়না-তদন্তে জানা গিয়েছিল। শুক্রবার রাতে খাল থেকে দেহ উদ্ধার হওয়ার পর শনিবার ময়না-তদন্ত হয় বলরামের দেহের। কিন্তু পচাগলা ওই দেহের ময়না-তদন্তের পর এখনই তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চিকিৎসকরা কোনও মতামত দেননি বলে পুলিশের দাবি। অর্থাৎ অর্চনাকে খুন করে বলরাম আত্মহত্যা করেছেন এবং হোটেলের উটকো ঝামেলা এড়াতে তাঁরা দেহ লোপাট করেছিলেন বলে ধৃত আশিস যে দাবি করেছেন, সে তথ্য নিশ্চিত নয়।

আশিসের দাবি অনুযায়ী, ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে হোটেলের ঘর খুলে দু’টি দেহ উদ্ধারের পর কম্বলে মুড়ে দেহ বস্তাবন্দি করা হয়। তার পর রাতে একটি সাদা গাড়ির ডিকিতে তুলে দেহ দু’টি পাচার করা হয়। আশিসের বয়ান অনুযায়ী সেই গাড়িটি কার এবং কে সেটির বন্দোবস্ত করল, তা জানার সঙ্গেই গাড়ির চালককেও চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

সূত্রের দাবি, আটলান্টিকা হোটেলে রেজিস্টার ঘেঁটে সেখানে বলরাম-অর্চনাদের নাম পাওয়া যায়নি। হোটেলে আসা অতিথিদের পরিচয়পত্রের নথি জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু সেখানেও মেলেনি মৃতদের পরিচয়পত্রের কোনও প্রতিলিপি।

এক্ষেত্রে দু’টি সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। দেহ লোপাটের সঙ্গে সঙ্গে রেজিস্টার থেকে তথ্য লোপাট করা হয়েছে। অথবা, বলরাম, জয়দেবদের পূর্ব পরিচিত হতে পারেন। অর্চনাও আগে একাধিকবার সেই হোটেলে গিয়ে থাকতে পারেন। সে কারণে, তাঁদের ক্ষেত্রে হয়তো রেজিস্টারের নিয়ম মানা হত না। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজও হাতে পাননি তদন্তকারীরা। প্রশ্ন উঠেছে, প্রমাণ লোপাট করতেই কি আগেভাগে সিসিটিভি বিকল করে দেওয়া হয়েছিল? সে সম্ভাবনাও এখনই খারিজ করছে না পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, অসংখ্য চরিত্রের সঙ্গে সঙ্গে গোটা ঘটনায় একাধিক অভিমুখ থাকারও সম্ভাবনা রয়েছে। জয়দেব-হরিহররা ধরা পড়লে সেই জটিল রহস্যের জট খুলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here