Missile defence: modi, putin signed 5 billion dollar s-400 air defence system deal for surface to air missile defence system – মোদী-পুতিন ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি

0
17


গৌতম হোড়, নয়াদিল্লি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর্থিক নিষেধাঞ্জার হুমকি সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে এস ৪০০ ট্রায়াম্ফ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য চুক্তি করল ভারত৷ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই চুক্তিতে সই করেন৷ এই চুক্তির গুরুত্ব হল, এটাই এখন বিশ্বের সবথেকে মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র৷

চিনের হাতে এই অস্ত্র রয়েছে৷ মূলত চিন ও পাকিস্তানের কথা মাথায় রেখেই রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এই অস্ত্র কিনছে৷ কিন্তু তার থেকেও বড় কথা, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, ইরানের কাছ থেকে যুদ্ধাস্ত্র কেনা নিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগে থেকেই আইন পাশ করিয়ে রেখেছেন৷ সেই আইন অনুযায়ী, ওই তিন দেশের কাছ থেকে কেউ অস্ত্র কিনলে তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করবে আমেরিকা৷ কিন্তু মোদী-পুতিন চুক্তির পরে আমেরিকা যথেষ্ট নরম মনোভাব দেখিয়েছে৷ প্রাথমিক ভাবে মার্কিন প্রতিক্রিয়া হল, তারা তাদের বন্ধু ও শরিক দেশগুলির সামরিক শক্তি বাড়াবার পথে বাধা হতে চায় না৷

ইঙ্গিতটা স্পষ্ট, ভারতের ক্ষেত্রে কোনওরকম ব্যবস্থা না নিয়ে নয়াদিল্লিকে এক্ষেত্রে ছাড় দিতে পারেন ট্রাম্প৷ বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের দাবি, এটা নিঃসন্দেহে ভারতের পক্ষে বড় জয়৷ অবশ্য তারা যে এই ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে, সেটা আমেরিকাকে আগেই জানিয়ে রাখা হয়েছিল৷ কেন এটা জরুরি সেটাও তাদের বলা হয়েছিল৷ তারপরই রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তিতে সই করে ভারত৷ এ ছাড়া আরও আটটি সমঝোতাপত্রেও দুই দেশ সই করেছে৷ তার মধ্যে অন্যকম হল, ২০২২ সালে ভারত থেকে প্রথমবার মহাকাশচারী-সহ মহাকাশযান পাঠানোর ক্ষেত্রে রাশিয়া সাহায্য করবে৷ এই প্রকল্পের নাম হল গগনায়ন৷ এ ছাড়া ছটি পারমাণবিক শক্তি প্রকল্প ও রেলে সহায়তা নিয়েও সমঝোতাপত্র সই হয়েছে৷


পাশাপাশি, মোদী ও পুতিন ইরান থেকে অশোধিত তেল কেনা নিয়েও আলোচনা করেছেন৷ নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারত ক্রমশই আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে৷ ইজরায়েলের সঙ্গেও তারা সুসম্পর্ক গড়ে তুলছে৷ এই অবস্থায় ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু রাশিয়া ক্ষুব্ধ হয়৷ তারা তখন পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়ায়৷ কিন্ত্ত প্রথমে পুতিনের সঙ্গে রাশিয়ায় গিয়ে কোনওরকম নির্দিষ্ট কর্মসূচি ছাড়াই আলোচনা করেন মোদী৷ তারপর এ দিন ক্ষেপণাস্ত্র কেনা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে চুক্তি সই হল৷ ফলে রাশিয়াকে উপেক্ষা করে নয়, মোদী যে তাঁদের সঙ্গে নিয়েই চলতে চান, তা স্পষ্ট৷ প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, রাশিয়া সবসময় ভারতের পাশে থেকেছে এবং ভারতের উন্নয়নে সাহায্য করেছে৷ এখন বিশ্বে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে৷ তার মধ্যেও দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ আরও শক্তিশালী হচ্ছে৷ বস্তুতঃ, রাশিয়ার সাড়ে চার বছর পরে হলেও মোদী যেভাবে রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক আরও বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন, তাতে ভারতের বিদেশনীতির মধ্যে একটা ভারসাম্য আসবে৷ তা পুরোপুরি মার্কিন-ঘেঁষা বিরোধীদের এই অভিযোগ করার জায়গা থাকবে না৷ রাশিয়ার পক্ষেও ভারত সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসাবে পরিগণিত হয়েছে৷ সেই ঠান্ডা যুদ্ধের সময় থেকে রাশিয়া সবসময় ভারতের সঙ্গে থেকেছে৷

দেশের বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তা করেছে৷ ফলে মস্কো যদি নয়াদিল্লির থেকে দূরে সরে যেত, সেটা কূটনৈতিক দিক থেকে ভারতের সাফল্য বলে পরিগণিত হত না৷পুতিন বলেছেন, আমরা সন্ত্রাসের মোকাবিলায় এবং মাদক চক্র ধ্বংস করতে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়াচ্ছি৷ মোদীও বলেছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাশিয়ার মতো বন্ধু দেশ ভারতের কাছে আর দ্বিতীয় নেই৷ আর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী সদস্য হওয়ার দাবি রাশিয়া সমর্থন করে৷ এই নিয়ে এক বছরের মধ্যে মোদী ও পুতিনের মধ্যে তিনটি বৈঠক হল৷ বোঝা যাচ্ছে, দু দেশের মধ্যে মাঝখানে সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছিল, তার থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে দুই দেশ৷ আমেরিকার পক্ষেও ভারতের বিরুদ্ধে অত সহজে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা সম্ভব হবে না৷

কারণ, ভারতের বিশাল বাজার আমেরিকার পক্ষেও অত্যন্ত জরুরি৷ দ্বিতীয় পোখরান বিস্ফোরণের পর আমেরিকা ভারতের বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ঠিকই, কিন্ত্ত পরে তা প্রত্যাহার করতেও বাধ্য হয়েছিল৷ আর এ বার তো পুরো বিষয়টি আমেরিকাকে জানিয়েই করেছে ভারত৷ পুতিনের সঙ্গে ইরান থেকে তেল কেনা নিয়ে মোদীর যে কথা হয়েছে, সেটাও তাৎপর্যপূর্ণ৷ আমেরিকা জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৪ নভেম্বর থেকে কোনও দেশ ইরান থেকে অশোধিত তেল কিনলে তাদের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে৷ কিন্ত্ত চিন, উত্তর কোরিয়ার মতো রাশিয়াও আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত মানছে না৷ এই অবস্থায় ভারত কী করবে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ৷





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here