sexual abuse: grandfather sexual abuse his granddaughter at west bengal howrah bally – যৌন নির্যাতন দাদুর, স্কুলে জানাল নাতনি

0
18


সৌমিত্র ঘোষ, বালি

নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়র যৌন লালসার শিকার হয়ে দিনের পর দিন রক্তাক্ত হয়েছে বছর দশের অসহায় শৈশব। কিন্তু জানাতে পারেনি কাউকে। অবশেষে বালির পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ভেঙে পড়ে স্কুলে বন্ধুদের কাছে। বন্ধুরা তা জানায় ক্লাসের শিক্ষিকাকে। শিক্ষিকারা নিজেদের মধ্যে কথা বলে ওই ছাত্রীকে ডেকে সব কথা শোনেন। জানা যায়, ক্লাস টু থেকেই তার উপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে নিজের দাদু। অর্থাৎ মায়ের বাবা। অথচ প্রবীণের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি পরিবারের কেউ।

দু’দিন আগে স্কুলের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয় বালি থানায়। থানার আধিকারিক যান স্কুলে। তিনিও শিশুটির সঙ্গে কথা বলে সব জানতে পারেন। স্কুলে ডাকা হয় ছাত্রীর মা’কে। তাঁর বাবা যে নাতনির উপর অত্যাচার করছে, সে কথা মেনে নেন ছাত্রীর মা। কিন্তু বাবার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানাতে সাহস পাননি তিনি। কারণ বাবা যে পুলিশকর্মী। বিধাননগরে চাকরিতে বহাল ওই গুণধর।

নির্যাতিতা জানিয়েছে, অশ্লীল ভিডিয়ো দেখানো, হাতে কলা বা শসা জাতীয় ফল দিয়ে অশ্লীল ইঙ্গিত থেকে শুরু। ক্রমে গায়ে, গোপন অঙ্গে হাত দেওয়া, ঘুমের সময় জল খাওয়ানোর নাম করে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নির্যাতন- সবই করত ওই ব্যক্তি। অনেক দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যথায় কষ্ট পেত ছাত্রী। কখনও ঘুম থেকে উঠে দেখত, তার পোশাক অবিন্যস্ত। ধীরে ধীরে সে বুঝতে শিখেছিল, আসলে কী হচ্ছে। কিন্তু নির্যাতনের ফলে মানসিক আতঙ্কের শিকার হয়েও পরিবারের কারও থেকে জোটেনি এতটুকু সাহায্য বা সহানুভূতি।

অনটনের কারণে ছাত্রীর বাবা-মা তার ছোট ভাইকে নিয়ে থাকেন অন্যত্র ভাড়া বাড়িতে। দাদু-দিদার কাছে ছোট থেকে একা থাকতে অভ্যস্ত নির্যাতিতা। সেই সুযোগেই বিকৃতমনস্ক ওই পুলিশকর্মী নিজের নাতনির উপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়ে আসছিল। সকলে তা জানলেও পারিবারিক সম্মানের কারণে অভিযোগ না হওয়ায় নির্ভয়েই ঘুরে বেড়াচ্ছে ওই প্রবীণ। শুধু যৌন নির্যাতন নয়, দাদুর নৃশংস মারের ভয়েও সিঁটিয়ে থাকত ছোট্ট মেয়েটি। স্কুলে দিদিমণির ঘরে বসে নিজের হাত-পায়ে মারের কালশিটে দাগ দেখায় সে। যা দেখে শিউরে ওঠেন স্কুলের দিদিমণিরা।

জানা গিয়েছে, ছাত্রীর বাবা সামান্য বেসরকারি চাকুরে। আয় কম থাকার কারণে পুলিশকর্মীর উপরই অনেকটা নির্ভরশীল মেয়ে-জামাই। সে কারণ এবং বাবার পুলিশি চাকরির প্রভাবের ফলে তাঁরা কোনও পদক্ষেপ করতে ভয় পাচ্ছিলেন। এই অবস্থায় পুরো ঘটনার কথা জেনে এগিয়ে এসেছেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা। বুধবার ‘বচপান বাঁচাও’ নামে সংগঠনের কর্মীরা স্কুলে এসে কথা বলেন ছাত্রীর সঙ্গে। শিশুর মা’কেও বোঝানো হয়। সন্ধ্যায় সাড়ে ছ’টা বালি থানায় গিয়ে বাবার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন ছাত্রীর মা। সঙ্গে ছিলেন স্কুলের শিক্ষিকারাও। বচপন বাঁচাও-এর পক্ষ থেকে অরিজিৎ অধিকারী বলেন, ‘পুরো বিষয়টি শিশু সুরক্ষা কমিশনের নজরে আনা হচ্ছে।’





Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here